Wednesday, July 29, 2020

আমাকে নিয়ে চলো, জাহ্নবী



দয়াময় বন্দ্যোপাধ্যায় 

আমার কি কোনো দায় আছে? কেউ বললো, পশু তো আর নয়। অবশ্য তাদেরও দায় থাকে। পতঙ্গ হলেও দায় থাকে। এমনকি সাপ হলেও। অতএব আমিই বা কোন প্রানীটি যে দায় এড়িয়ে বেঁচে থাকি কিমাকার গোলকের উপরিভাগে। এইভাবে কত প্রশ্ন। ক্ষণে ক্ষণে ভুলে যাওয়া। যদিও নির্দিধায় কেটে গেলো পঁয়ত্রিশ বছর। আর দুটো বছর নিশ্চয়ই কেটে যাবে প্রাক্তন বছরের মতোই। বিশেষ কোনো ঋতু নেই আমার। কোনো মেধাবী মাস অথবা উৎসব। কোথায় কখন কে আসে আর ফিরে চলে যায় উত্তর আসে না। মানুষের পদপ্রান্তে কার নিয়তি পড়ে থাকে? মানুষের ছায়া পড়ে থাকে না। আমি বেঁচে আছি এই পরম আশ্চর্যের ভেতর। যথেষ্ট আনন্দ। এরপর কয়েকটি লেখা ক্ষুদ্র জীবনজুড়ে। একটি দুটি প্রেম। কয়েকটি চলে যাওয়া মিছিলের ছায়ার মতোই। দিন ঘুরে চলেছে রাতের পিছনে ন্যাওটা ছেলেটির মতো। খুঁট ধরে প্রতিদিন বলে "ভোর দে"। রাতও বিরক্ত হয় এই প্রাত্যহিক কাঙালপনায়। মেজাজ দেখায়। "আমাকেও সন্ধ্যা দে। দে বলছি।" দুজনেই বেশ আদরে আদরে থাকে। সূর্যবাতি, চন্দ্রবাতি, তারাবাতি তাদের এই নিত্যকার খুনসুটি দেখে অর্বুদ অর্বুদ বছরের পরেও। এর পরেও তুমি চলে যাও। চলে যেতে পারো দায়িত্বে রেখে দিয়ে। কয়েকটি অক্ষর সাজাচ্ছি এভাবেই নিজস্ব সান্নিধ্যে। সাজালাম। দুধের ঘনত্ব থেকে মাখন তুলে নিতে পারলাম না শারীরিক হাতে। অতএব 

আমাকে ভুলিয়ে নিয়ে চলো জাহ্নবী
তোমার চেয়ে কত ছোট। অন্তত বছর ছয়ের তো হবেই
তবুও নিয়ে চলো। নিয়ে চলো দূর দূর 
গ্রাম পেরিয়ে, অরণ্যপথ যেখানে শেষ হয়েছে
সেই গমক্ষেত পেরিয়ে, আরো দীর্ঘ পাহাড়
সমতল পেরিয়ে নদীটির কাছে আমাকে নিয়ে চলো

তুমিই তো বুঝেছো জাহ্নবী, আষাঢ়ে মেঘমাসে
কে আর জানালাবন্দি ঝরঝর আহ্বান করে
কে আর স্যাঁতস্যাতে ঢুলু ঢুলু বিছানায় 
ঘুম চেয়ে রাত্রি নামাতে চায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে

তুমিই প্রথম জানো, কোথা থেকে চুঁইয়ে পড়ে
মধুবিন্দু। কীভাবে নেমে আসে অমৃতক্ষরণ...

যে নদীর ওপর অবশ্যম্ভাবী মেঘ প্রসব বেদনাহত
সেখানে তোমার আবহমান কোলের ওপর 
আমি শুয়ে থাকবো। জেগে জেগে দেখবো
দিন আর রাত্রি জেনেশুনে একে অপরের জন্য 
জায়গা প্রস্তুত করে। রহস্য রেখে দেয় শব্দহীন সময়ে

তুমি তো কতদিন, কতবার আমাকে একটি
আলোবিন্দুর কাছে নিয়ে গেছো।
উপেক্ষা করেছো প্রচলিত নিয়ম এবং জোড়া জোড়া চোখ
নিয়ন্ত্রিত পৃথিবীর ঘনান্ধকারে দেখিয়েছো 
আকাশগঙ্গার জ্যোতির্ময় পুঞ্জ পুঞ্জ মায়া

নিয়ে চলো, নিয়ে চলো নির্জন উপাসনায় 
মেঘমন্দ্রের আবহসঙ্গীতে...

No comments:

Post a Comment

এক ঘর, দশ উঠোন

দয়াময় বন্দ্যোপাধ্যায়  ওপরে উঠতে চাইছি। চাঁদ ঘোলাটে হয়ে গেল মধ্যরাতে।  সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে কৈশোর দেখছি। এখন রাত। যত ওপরের দিকে যাই... ততই কান্না ...